বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
কাশিমপুরের হাতিমারা কলেজে বাউবি এইচ.এস.সি. প্রোগ্রামের বই বিতরণ, ওরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত। লালমনিরহাটে চলন্ত বাসে সন্তান প্রসব! নবজাতকের নাম ‘আনাস হাসান’ দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার লালমনিরহাটে পুলিশের মতবিনিময় সভা পঞ্চগড়ে রাস্তার পাশের খালে ব্যবসায়ীর মরদেহ, তদন্তে পুলিশ-সিআইডি গাজীপুরে চোরাই গরু উদ্ধার করে বিপাকে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ আদর্শ ইসলামিক ক্যাডেট স্কুলের অভিভাবক সমাবেশ, ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, একই শ্মশানে পাশাপাশি চিতা বকশীগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ! পঞ্চগড় পৌরসভায় ২৭টি ডাস্টবিন বিতরণ তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ, পঞ্চগড়ে ক্ষুব্ধ সংবাদকর্মীরা
গাজীপুরে নির্মাণের ৩ মাসেই ধসে গেছে ৯ কোটি টাকার সড়ক

গাজীপুরে নির্মাণের ৩ মাসেই ধসে গেছে ৯ কোটি টাকার সড়ক

অনলাইন ডেস্ক :: গাজীপুরের শ্রীপুরে রাজাবাড়ী-দমদমা পর্যন্ত ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই হঠাৎ ১ কিলোমিটার অংশ ধসে পড়েছে। ফাটল দেখা দিয়েছে কয়েকটি পয়েন্টে। ভেঙে যাচ্ছে নদীর তীরে বসানো ব্লকগুলোও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের ফল এটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার শ্রীপুর উপজেলা থেকে শহরে যাতায়াতে সুফল আনতে ২০২১ সালে রাজাবাড়ী থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজের অনুমতি পায়। প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শেষ করার কথা থাকলেও মেয়াদ বেড়ে ২০২৬ সালে শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসেই সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের সূতি নদী এলাকায় চিনাশুকানিয়া গ্রামের ১ কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যে ধ্বসে গেছে। ফাটল দেখা দিয়েছে কয়েকটি পয়েন্টে। নদীর তীর বসানো ব্লক ইতিমধ্যে ভেঙে বিলীনের পথে। এমন পরিস্থিতিতে সড়কের ভাঙা অংশগুলোতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জোড়াতালি দিতে দেখা গেছে। কয়েকটি পয়েন্টে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। এতে সড়কের ওই অংশটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মহসিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাত্র ৩ মাস হয়েছে সড়কটির কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই ১ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ অংশ ধ্বসে নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে এখানে চলাচল অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঠিকাদার এখানে বস্তা ফেলছে। এতে কী সড়ক রক্ষা হবে?

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সড়ক নির্মাণের পরপরই হঠাৎ করে সড়কটি দেবে গেছে। দিনদিন আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিরাট অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই সড়কটি নির্মাণ করার আগে নদীর তীর বালু মাটি দিয়ে রাতারাতি ভরাট করে নির্মাণ কাজ শুরু করে। মাটি বালু ঠিকমতো রোলিং না করার কারণে এই অবস্থা হয়েছে। এখানে কর্তৃপক্ষ সঠিক তদারকি করেনি।

একই গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, কাজের শুরুতে আমরা প্রতিবাদ করি। ব্লকগুলো ভিটবালু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে। যার কারণে সব ব্লকের জোড়া খুলে যাচ্ছে। ব্লকগুলো নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন ঠিকাদারের লোকজন। ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করেননি।


এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম জানান, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল উত্তলন করলেও জামানত দুই বছর পর্যন্ত জমা থাকবে। যতবার ভাঙবে ততবার ঠিক করে দেবো। তাতে আপনাদের সমস্যা কোথায়।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ জানান, সড়কের একটি অংশ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে লোক পাঠিয়ে পরিদর্শন করিয়েছি। বর্ষাকালে কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করলেও তাদের জামানতের ১০ ভাগ টাকা রয়েছে। সেই টাকার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি। সেই টাকায় সড়ক মেরামত করা হবে। নিম্নমানের কাজের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমন প্রমাণ পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com